অনেক কথা মনে আসে। সারাদিন অনেক আলাপ ভাবি, দিনশেষে আবার তা হারিয়ে যায়। ঘুমিয়ে উঠি, পরদিন নতুন সকাল, আবার সব যেন নতুন করে শুরু হয়। শুরু বললেই কী আসলে নতুন করে শুরু করা যায়! আগের দিনের কিছু যেন মনে রয়ে যায়! আগামী দিনের অনেক পরিকল্পনাও মনে আসতে থাকে সবসময়। বিভিন্ন সময় ডায়েরি লেখার চেষ্টা করেছি, বলাবাহুল্য! যাই হোক, এখন আবার লেখা শুরু করলাম। জানি না কতোদিন নিয়মিত হবে!
যদিও টাইটেলে স্মৃতিকথা লিখেছি, আসলে এটা জগাখিচুরি হবে। নতুন পরিকল্পনা হবে, অতীতের স্মৃতিচারণাও থাকবে। ভুল-ঠিক, সম্পর্ক, জটিলতা, চিন্তা-ভাবনা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কাটানো জীবন; সবই বলার চেষ্টা করা হবে।
মানুষ হিসেবে এসেছি, নানান অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। আসলে, সবাই যাচ্ছে; কিন্তু কয়জন মনে রাখছে গতকাল কী ঘটেছিলো। হয়ত, স্মৃতি হিসেবে মাঝেমাঝে মনে পড়ে তাদেরও, হয়ত স্বপ্ন হিসেবে উঠে আসে শেষরাতে। এই পুরো জার্নিটাই আসলে আমি আমার শরীর, মন, চিন্তা-ভাবনা বা বোঝাপড়া থেকে করার চেষ্টা করবো। লেখা হিসেবে মনে হচ্ছে খুব র্যান্ডম হতে পারে। যদি বেঁচে থাকি, ১০ বছর পর মিলিয়ে দেখবো! হয়ত মনে মনে হাসবো, এতো কিছু কখন ভাবলাম; অথবা বিস্ময়ে হতবাক হবো, এভাবে ভাবতাম তখন!
যাই হোক, এই যেমন এখন ঠিক এই মুহূর্তে বসে আছি অফিসে। এখন আমি ফোরথট পিআর নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি, কনটেন্ট রাইটার হিসেবে। এখন রোজার মাস চলছে। অফিসে ইফতার করার কথা। নাম দিয়েছি যদিও, কিন্তু জানি না, করতে পারবো কিনা! জুসি চট্টগ্রাম গিয়েছিলো অফিসের শুটিংয়ে। সেখান থেকে ফিরছে। ও এখন 'এক্স' নামে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিতে কপিরাইটার হিসেবে কাজ করছে। ওদের আজকে অফিসের গ্র্যান্ড ইফতার হওয়ার কথা। কিন্তু ও আসতে আসতে হয়ত এটা ধরতে পারবে না। তাই, আমার অফিসে আসলে আমরা হয়তো বাইরে ইফতার করবো। জীবন এতোটাই অনিশ্চিত। এখন সময় বাজে ঠিক ৫টা ৪৫।
আজকে অফিসে আসতে দেরি করেছি। ১১টার দিকে এসে পৌঁছেছি। এরপর হাতে বাংলালিংকের একটা আর্টিকেল ছিলো, সেটা দিয়েছি। এরপর 'অনার' মোবাইল ব্র্যান্ডের আরেকটা কাজ আছে। সেটা কিছুদূর এগিয়ে আর করতে মন চাইছিলো না। কালকে দেয়ার তারিখ, তাই কাজ জমিয়ে রেখেছি। এরমধ্যে অফিসের নাভিদ আর রাকিনকে সাথে নিয়ে একটা মিটিং করেছি।
সেই মিটিংয়ের এজেন্ডা - আমরা একটা পাঠচক্র করবো। নাম ঠিক করা হয়েছে - উদয়ন পাঠচক্র। রাকিন দায়িত্ব নিয়ে পেপারওয়ার্ক রেডি করছে। আমরা তাকে সাহায্য করছি। মোটো ঠিক করা হয়েছে - চিন্তা - সবার জন্য। যাই হোক, সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পরের শুক্রবার, মানে আগামী ১১ এপ্রিল, ২০২৫, অনলাইনে পাঠচক্রের ১ম সেশন আয়োজিত হবে। এ উপলক্ষে নাভিদ কয়েকটা টেক্সট গোছাচ্ছে। এর মধ্যে আছে - আইনস্টাইনের 'হোয়াই সোশ্যালিজম', রোজা লুক্সেমবার্গের 'রিফর্ম-রেভ্যুলুশন' আর ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ওপর একটা ইউটিউব ডকুমেন্টারির লিংক।
আজকে সারাদিন একটা গানের লুপে আছি। এ আর রহমানের সুরে, কৈলাশ খেরের গাওয়া, থালাপাতি বিজয় ও নিথয়্যা মেননের অভিনয়ে - Aalaporan Thamizhan.
এরমধ্যে বলা ভালো, অফিসে বেতন-ভাতা নিয়ে কিছু জটিলতা হচ্ছে। গত সপ্তাহে নতুন এক এজেন্সিতে ইন্টারভিউ দিয়েছি, নাম ওপাস কমিউনিকেশনস। সেখানকার এইচআর আজকে ফোন দিয়ে এই অফিসের স্যালারি সার্টিফিকেট চেয়েছে। রাতে দিবো বলেছি।
আরেকটা বিষয় নিয়ে কাল রাত থেকেই মন খারাপ হয়ে আছে। আমার আসলে বন্ধুভাগ্য খুব খারাপ। হয়ত আমার স্বভাবের কারণেই আমার কোনো বন্ধু-বান্ধব নাই। যারা আছে তাদের বলা যায় পরিচিত, অথবা ক্লাসমেট, ব্যাচমেট, ইয়ারমেট ইত্যাদি। বন্ধু বলতে যা বোঝায় তা নাই আসলে। এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত বলবো। এরমধ্যেই চৈতন্যের প্রকাশক রাজীব চৌধুরী ফোন দিয়েছিলেন। তার সাথে কথা হলো। পরশু ঢাকা আসতে পারেন। তার সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নিজের কী কী লেখার পরিকল্পনা আছে, তা নিয়ে পরে লেখবো।
আজ এই থাক। এখন ৬টা বাজে। জুসি ফোন দিয়েছে। ও ঢাকায় ঢুকেছে। আমি এখন অফিস থেকে বের হয়ে যাবো।
No comments:
Post a Comment